আমি উঠে বসার পরে একটু গিয়েই ড্রাইভার রাস্তার বাঁদিকে দাঁড়িয়ে গেলো। কাউকে ফোন করতে লাগলো। স্পীকার অন। এক মহিলা ফোন ধরলেন। ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলো -- “আপনি ফোন ফেলে গেছেন?” মহিলা অচেনা গলা পেয়ে বুঝতে না পেরে অবাক হয়ে বার বার “Who is this?” বলতে লাগলেন। ড্রাইভার ফোন কেটে দিলো।
আমাকে বললো, “কেউ এই ফোনটা ফেলে গেছে।”
দেখলাম, একটা ছোটো iPhone। পুরোনো মডেল।
“আমার কি? Track করুক এখন। আমি বলবো আমি ফেরত দিতে যাবো না, আপনি আসুন।”
আমি বললাম, “আপনার নাম্বারেও তো ফোন করতে পারে। কিন্তু আপনার নাম্বার পাবে কি করে, হয়তো ওলা টাও এই ফোনটাতেই ছিলো।”
“হ্যাঁ, এতেই। একমাত্র আমাকে track করতে পারবে যদি থানায় ডায়রি করে। নইলে ওলা আমার নাম্বার দেবে না।”
আমি বলার চেষ্টা করলাম, “শুধু শুধু থানা পুলিশ হোক সেটাই বা আপনি চাইবেন কেনো? আপনি দেখুন না যদি কোনো কন্ট্যাক্ট থাকে মা বাবা এইসব নামে, তাহলে তাদের ফোন করুন।”
“আমার কী এসে গেলো? আমি পরিষ্কার বলে দেবো ও ফেলে গেছে। আর ফোন তো পাসওয়ার্ড দেয়া। ঐ নাম্বার থেকে মিস কল এসেছিলো তাই ফোন করতে পারলাম।”
এতক্ষণে লক্ষ করলাম ওলা ড্রাইভারের হাবভাবে একটা যুবরাজোচিত অহংকার। বয়েস তিরিশের কমই হবে, গালে হালকা দাড়ি।
“কী হবে দু-পয়সার জিনিস নিয়ে? আমি সব দিয়ে দিই। যা, যা পারিস নিয়ে যা! একবার একজন একটা বড় টেপ ফেলে গেছিলো। তারপর আমাকে ফোন করেছে। আমি বললাম কোনো চিন্তা নেই, অমুক জায়গায় এসে নিয়ে যান।”
নিজের অর্জিত না হলেও, কোনো কিছু যদি হাতে এসে পড়ে, তার উপর মানুষের একটা অধিকারবোধ জন্মে যায়।
ফেলে যাওয়া জিনিস ফেরত দেবার কোনো নৈতিক দায়িত্ব নেই। তাই নিজের পরম দয়াপরবশ মনের অহংকারটা খুব স্পষ্ট।
“কিন্তু যদি কেউ মনে করে এক পেটি টাকা ফেলে গেলে সেটা ফেরত দেবো তাহলে ভুল ভাববে। সেটা হচ্ছে না বস।”
আমি একটু আওয়াজ করে হাসলাম। কথা আর এগোলো না।
একটা সিগনালে গাড়িটা দাঁড়ালো। তিরিশ সেকেন্ড। সিগনাল সবুজ হতেই এই ড্রাইভার রেগেমেগে সামনের গাড়িটাকে টানা পাঁচ সেকেন্ড হর্ন দিলো। সে কিন্তু গাড়ি ছাড়তে কোনো দেরি করেনি।
হতাশাটা রাস্তায় দেরি হবার জন্যে ছিলো না। ফেলে যাওয়া জিনিসটা এক পেটি না হয়ে হলো কিনা একটা পুরোনো iPhone, সেই হতাশা।
No comments:
Post a Comment