“কারণ আমাদের শরীরে জল দরকার।”
“কেনো আমাদের শরীরে জল দরকার?”
“শরীরে যে ছোট্ট ছোট্ট কোষ আছে, সেগুলোর বেঁচে থাকার জন্যে জল দরকার।”
“সেগুলোর বেঁচে থাকার জন্যে জল কেনো দরকার?”
বাচ্চাদের একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে তারা সেই উত্তরের পিঠে আরো একটা প্রশ্ন করে। তার উত্তর দিলে তারা বলে সেটাই বা কেনো?
আমরা আর প্রশ্ন করি না। বেশি প্রশ্ন করা অভদ্রতা হতে পারে। প্রশ্ন করলে সবাই বোকা ভাবতে পারে। প্রশ্ন করলে উত্তর নাই পাওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন করি না। প্রশ্ন পছন্দও করি না। তাই নিজেদেরও প্রশ্ন করি না।
যদি প্রশ্ন করতাম? যেমন --
কেনো ওজন কমাতে চাই?
শরীর ভালো রাখতে হবে বলে।
শরীর ভালো রাখতে চাই কেনো?
নইলে তাড়াতাড়ি মরে যাবো বলে।
বেশিদিন বাঁচতে চাই কেনো?
…
অথবা --
ফেসবুকে ছবি কেনো দিলাম?
কতজন লাইক করে দেখবো বলে।
লাইক করলে কি হবে?
ভালো লাগবে।
কেনো ভালো লাগবে?
অন্যরা প্রশংসা করলে ভালো লাগে তাই।
অন্যরা প্রশংসা করলে ভালো লাগে কেনো?
…
অথবা --
কি করি?
পড়াই। একটু আধটু গবেষণা করি।
কেনো করি?
নতুন কিছু করবো বলে।
নতুন কিছু করে কী হবে?
…
কয়েক ধাপ প্রশ্ন করার পরে চিন্তা অনেক গভীরে চলে যায়। বোঝা যায়, আমরা নিজেদের উত্তরগুলোই ততটা ভালো জানিনা। আরো ভাবতে হবে। আরো গভীরে যেতে হবে।
নিজের আসল ‘কেনো’-গুলো খুঁজে পাওয়া দরকার। অনেক গভীরে। হয়তো দেখা যাবে অনেক কিছুই করি, যার যথেষ্ট কারণ নিজের কাছেও নেই, এতোদিন বুঝে উঠিনি। আবার হয়তো অনেক কারণ বুঝে দেখিনি, বুঝলে অন্য কিছু করতে চেষ্টা করতাম।
No comments:
Post a Comment