July 29, 2017

ওলা কাহিনী

আমি উঠে বসার পরে একটু গিয়েই ড্রাইভার রাস্তার বাঁদিকে দাঁড়িয়ে গেলো। কাউকে ফোন করতে লাগলো। স্পীকার অন। এক মহিলা ফোন ধরলেন। ড্রাইভার জিজ্ঞেস করলো -- “আপনি ফোন ফেলে গেছেন?” মহিলা অচেনা গলা পেয়ে বুঝতে না পেরে অবাক হয়ে বার বার “Who is this?” বলতে লাগলেন। ড্রাইভার ফোন কেটে দিলো।

আমাকে বললো, “কেউ এই ফোনটা ফেলে গেছে।”

দেখলাম, একটা ছোটো iPhone। পুরোনো মডেল।

“আমার কি? Track করুক এখন। আমি বলবো আমি ফেরত দিতে যাবো না, আপনি আসুন।”

আমি বললাম, “আপনার নাম্বারেও তো ফোন করতে পারে। কিন্তু আপনার নাম্বার পাবে কি করে, হয়তো ওলা টাও এই ফোনটাতেই ছিলো।”

“হ্যাঁ, এতেই। একমাত্র আমাকে track করতে পারবে যদি থানায় ডায়রি করে। নইলে ওলা আমার নাম্বার দেবে না।”

আমি বলার চেষ্টা করলাম, “শুধু শুধু থানা পুলিশ হোক সেটাই বা আপনি চাইবেন কেনো? আপনি দেখুন না যদি কোনো কন্ট্যাক্ট থাকে মা বাবা এইসব নামে, তাহলে তাদের ফোন করুন।”

“আমার কী এসে গেলো? আমি পরিষ্কার বলে দেবো ও ফেলে গেছে। আর ফোন তো পাসওয়ার্ড দেয়া। ঐ নাম্বার থেকে মিস কল এসেছিলো তাই ফোন করতে পারলাম।”

এতক্ষণে লক্ষ করলাম ওলা ড্রাইভারের হাবভাবে একটা যুবরাজোচিত অহংকার। বয়েস তিরিশের কমই হবে, গালে হালকা দাড়ি।

“কী হবে দু-পয়সার জিনিস নিয়ে? আমি সব দিয়ে দিই। যা, যা পারিস  নিয়ে যা! একবার একজন একটা বড় টেপ ফেলে গেছিলো। তারপর আমাকে ফোন করেছে। আমি বললাম কোনো চিন্তা নেই, অমুক জায়গায় এসে নিয়ে যান।”

নিজের অর্জিত না হলেও, কোনো কিছু যদি হাতে এসে পড়ে, তার উপর মানুষের একটা অধিকারবোধ জন্মে যায়।
ফেলে যাওয়া জিনিস ফেরত দেবার কোনো নৈতিক দায়িত্ব নেই। তাই নিজের পরম দয়াপরবশ মনের অহংকারটা খুব স্পষ্ট।

“কিন্তু যদি কেউ মনে করে এক পেটি টাকা ফেলে গেলে সেটা ফেরত দেবো তাহলে ভুল ভাববে। সেটা হচ্ছে না বস।”

আমি একটু আওয়াজ করে হাসলাম। কথা আর এগোলো না।

একটা সিগনালে গাড়িটা দাঁড়ালো। তিরিশ সেকেন্ড। সিগনাল সবুজ হতেই এই ড্রাইভার রেগেমেগে সামনের গাড়িটাকে টানা পাঁচ সেকেন্ড হর্ন দিলো। সে কিন্তু গাড়ি ছাড়তে কোনো দেরি করেনি।

হতাশাটা রাস্তায় দেরি হবার জন্যে ছিলো না। ফেলে যাওয়া জিনিসটা এক পেটি না হয়ে হলো কিনা একটা পুরোনো iPhone, সেই হতাশা।


July 05, 2017

The emotional numbers

Ruhan plays a game with his mother.

Ruhan says, “Mummy I love you.”
Mummy says, “I love you too.”

Then, it increases exponentially.

Ruhan says, “I love you ten.”
Mummy says, “I love you hundred.”
Ruhan says, “I love you thousand.”

It goes on, with ten thousand, millions, billions, up to a few billions. Off late, it is going up to a trillion and several trillions. The game stops when nobody has any count of how many trillions have been used in which order.

Well, I am sure those numbers are still not enough to measure their love.

But that’s not all.

We say:

“It would have been ten times better to take the other route.”
“I told you at least hundred times but you still didn’t listen to me.”
“He would have been thousand times better as a captain”, and so on.

In reality, thousand times better probably means just about twice better, or somewhere around that mark.

We emphasize the importance of our emotion using any big number we like, because they are free for non-commercial use.

Are there any parameters to estimate the relationship between the emotional numbers and the numbers we actually mean?  

July 04, 2017

রাত হচ্ছে ফিকে

রাতে ঘুম আসে না, সকালে ঘুম ভাঙে না।

আসলে পরের দিনটাকে আমরা তেমন পছন্দ করি না।

কিন্তু যদি খুব পছন্দের কিছু থাকে? ভোরবেলা অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিকেট খেলা শুরু? বেড়াতে যাওয়ার জন্যে প্লেন ধরা? বা মহালয়া, ...

তখন গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পড়া যায়। শরীরের ক্লান্তি মনে লাগে না।

সব সকাল এক নয়। কোনো কোনো সকালের মূল্য বেশি, অপেক্ষা বেশি। বাকি সব সকাল অবহেলার, ঘুম না ভাঙার, alarm বেজে যাওয়ার। নয়তো বা নিতান্তই নিয়মরক্ষার। আসলে এই সকালগুলো আসবেই, তাই আসে। না আসলেও আমাদের হয়তো আপত্তি ছিলো না।

কেমন হবে, যদি সবকটা সকালই খুব মূল্যবান হয়? যদি প্রতিটা আগামীকাল ভরিয়ে দিতে চেষ্টা করি এমন এমন কাজের পরিকল্পনা দিয়ে, যাতে সকালে উঠে আর এতটুকুও সময় নষ্ট করতে ইচ্ছে করবে না? যদি রাতে ঘুম আসে সকালের দিকে তাকিয়ে?

কালকের জন্যে তেমন কোনো কাজ রেখেছো কি?

July 03, 2017

আয়না (ভাবানুবাদ)

তুমি ভাবো, সেই কাজটা একেবারে পারো না। আসলে হয়তো যতটা নিজেকে দুর্বল ভাবো ততটা তুমি নয়। চেষ্টা করে দেখেছো কি?

ভাবো বুঝি এইটা খুব ভালো পারো। সত্যিই কি ততটা ভালো পারো? তেমন পরীক্ষায় পড়লে হয়তো দেখতে অনেক খামতি রয়ে গেছে।

আয়না তো এই সেদিনের আবিষ্কার। তার আগে হাজার হাজার বছর ধরে একজন মানুষ ঠিক জানতোই না সে কেমন দেখতে। নিজের কন্ঠস্বর কেমন শুনতে লাগে সেটা তো মাত্র কয়েক দশক আগেও খুব কম মানুষই জানতে পেরেছে।

অন্যদের কেমন দেখতে, কেমন শুনতে, সেটা জানার অভ্যেস সকল প্রাণীর, চিরকালের।

হয়তো, ভিতরে ভিতরে যা ভাবো, তার চেয়ে তুমি অনেকটা ভালো। চেষ্টা করে দেখো।

Credits: http://sethgodin.typepad.com/seths_blog/2017/06/two-confusions.html


July 02, 2017

কেন?

কাজ করা কঠিন। পরিশ্রম হয়। বাধা, বিপত্তি, ব্যর্থতা পেরিয়ে যেতে হয়। তাই এগিয়ে যেতে আমাদের অনেকেরই কিছু না কিছু চালনা শক্তির দরকার হয়, ঠিক যেমন গাড়ি এগিয়ে যেতে জ্বালানি লাগে।

সবার চালনা শক্তি আলাদা আলাদা। তার মধ্যে কয়েকটা হলো --

  1. উপার্জন: নইলে খাবো কী? থাকবো কোথায়?
  2. প্রশংসা: প্রশংসা সকলের ভালো লাগে।
  3. খ্যাতি: সবাই এক বা দু ডাকে চিনবে।
  4. সম্পদ: উপার্জন। আরো অনেক।
  5. প্রতিযোগিতা: অন্য কেউ এগিয়ে যাবে।
  6. নির্বাচিত হওয়া: কোনো সম্মান বা পদে।
  7. ক্ষমতা: ক্ষমতা অর্জন করার জন্যে।
  8. জরুরী অবস্থা: নইলে সব শেষ হয়ে যাবে।
  9. কর্তব্য: আমি না করলে কে করবে?
  10. উদারতা: কারো জন্যে কিছু করতে পারলে ভালো লাগে।
  11. প্রমাণ করা: হয়তো নিজের কাছেই। আমিও পারি।
  12. সম্ভাবনা: ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে।
  13. আদেশ: কারো নির্দেশ পালন করতেই হয়, তাই।
  14. পেশাদারিত্ব: কারণ এটাই আমার কাজ।
  15. অতৃপ্তি: এখন আমি যা, তাতে তৃপ্ত নই।
  16. প্রচলন: এটাই প্রচলিত, সবাই করে।
  17. তৃপ্তি: নিজের ভালো লাগে।
  18. হতাশা: কিছু না করলে হতাশা গ্রাস করে।
  19. প্রেরণা: কাউকে দেখে তার মতো হতে ইচ্ছে করে।
  20. উৎসাহ: কেউ কেউ এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়।
  21. ঔৎসুক্য: আরো জানবার ইচ্ছে।

কী করি তার সঙ্গে সঙ্গে কেনো করি সেটাও রোজকার জীবনে আমাদের কাজের মাঝে মাঝে আমাদের মনের মধ্যেই চলে। সেই “কেনো” টাই ঠিক করে, দিনগুলো আমাদের কেমন কাটবে।

তোমার “কেনো” গুলো কী কী? 

July 01, 2017

Shock

Shock comes not because something which shouldn't have happened has happened, but because we did not know the background, failed to anticipate it, or refused to be prepared for it.

It happens to everyone. The more we accept that we don't know everything, try to understand the real reasons behind events, the less they will come across as shocks.

Then, we will be able to respond appropriately instead of reacting helplessly.